নিউমোকক্কাল ভ্যাকসিন নিন

সুস্থ থাকুন

নিউমোকক্কাল রোগ

নিউমোকক্কাল রোগ হল স্ট্রেপ্টোকক্কাস নিউমোনিয়া বা নিউমোকক্কাস নামক ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সৃষ্ট সংক্রমণ। নিউমোকক্কাল সংক্রমণ কান এবং সাইনাসের সংক্রমণ থেকে নিউমোনিয়া এবং রক্ত প্রবাহের সংক্রমণ পর্যন্ত হতে পারে। স্ট্রেপ্টোকক্কাস নিউমোনিয়া বা নিউমোকক্কাস নামক ব্যাকটেরিয়া অনেক ধরনের সংক্রমণ ঘটাতে পারে। এর মধ্যে কিছু সংক্রমণ জীবনের জন্য হুমকি হতে পারে। যেমন:

নিউমোনিয়া

মেনিনজাইটিস

রক্তে সংক্রমণ বা সেপসিস

ওটাইটিস মিডিয়া সংক্রমণ

সাইনুসাইটিস

কিভাবে ছড়ায়

 লালা বা শ্লেষ্মা এর মাধ্যমে নিউমোকক্কাল ব্যাকটেরিয়া ছড়াতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে বিশেষ করে শিশুদের নাকে বা গলায় এই ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে।

ঝুঁকি কাদের বেশী?

বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তি

শিশু

দীর্ঘমেয়াদী ফুসফুসের রোগে আক্রান্ত ব্যাক্তি যেমন, এজমা, COPD, সিস্টিক ফাইব্রোসিস, পালমোনারী ফাইব্রোসিস

হার্ট ফেইলিউর এর রোগী বা হৃদরোগী

কেমোথেরাপি বা ক্যান্সারের ওষুধ গ্রহণকারী ব্যক্তিরা

ডায়াবেটিস, লিভার, কিডনী ও রিউমাটোয়েড আর্থ্রাইটিস রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি

যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল

ধূমপায়ী

প্রতিরোধ

নিউমোকক্কাল রোগ প্রতিরোধের সর্বোত্তম উপায় হল ভ্যাকসিন নেওয়া। সাথে নিচের অভ্যাসগুলো নিউমোনিয়া এবং অন্যান্য নিউমোকক্কাল রোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে।

নিউমোকক্কাল ভ্যাকসিন নেওয়া

স্বাস্থ্যবিধি অনুশীলন করা

সাবান এবং পানি দিয়ে নিয়মিত হাত পরিস্কার করা

ধূমপান থেকে বিরত থাকা

পুষ্টিকর খাবার গ্রহণের মাধ্যমে ইমিউনোসিস্টেম শক্তিশালী রাখা

নিউমোকক্কাল ভ্যাকসিন

এখন পর্যন্ত নিউমোকক্কাল পলিস্যাকারাইড এবং নিউমোকক্কাল কনজুগেট এই দুই ধরনের ভ্যাকসিন রয়েছে। যাদের নিউমোকক্কাল রোগের ঝুঁকি আছে তাদের জন্য এই ভ্যাকসিন সুপারিশ করা হয়।

নিউমোকক্কাল পলিস্যাকারাইড ভ্যাকসিন: নিউমোকক্কাল রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া স্ট্রেপটোকোক্কাস নিউমোনিয়া এর ২৩ ধরনের স্ট্রেইন (১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬৪, ৭, ৮, ৯, ৯, ১০৭, ১১৭, ১২F, ১৪, ১৫৪, ১৭, ১৮০, ১৯F, ১৯৭, ২০, ২২, ২৩, এবং ৩৩F) থেকে রক্ষা করে

নিউমোকক্কাল কনজ্যুগেট ভ্যাকসিনঃ নিউমোকক্কাল রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া স্ট্রেপটোকক্কাস নিউমোনিয়া এর ১৩টি স্ট্রেইন (১. ৩. ৪. ৫. ৬৭, ৬৪, ৭, ৯৩, ১৪, ১৮০, ১৯৭, ১৯ এবং ২৩F) -কে টিটেনাস টক্সয়েড নামক ক্যারিয়ার প্রোটিনের সাথে যুক্ত (কনজ্যুগেশন) করে ভ্যাকসিন প্রস্তুত করা হয়েছে, যা উক্ত ১৩টি স্ট্রেইনের বিরুদ্ধে অত্যন্ত শক্তিশালী সুরক্ষা দিয়ে থাকে।

নিউমোনিয়া থেকে সর্বোচ্চ সুরক্ষার জন্য দুই ধরনের ভ্যাকসিন ই গ্রহন করতে হবে।

ডোজ:

নিউমোকক্কাল কনজ্যুগেট ভ্যাকসিনঃ

  •  মাংসপেশিতে দিতে হবে
  • ৬ সপ্তাহ বয়সের শিশু থেকে সকল প্রাপ্ত বয়স্ক ও বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যাক্তি এবং দীর্ঘমেয়াদী রোগে আক্রান্ত ব্যাক্তিদের (যেমন: অ্যাজমা, COPD, হৃদরোগ, রিউমাটোয়ডে আর্থ্রাইটিস) জন্য বিশেষভাবে সুপারিশকৃত।
    • ২ থেকে ৬ মাস বয়সঃ ৪টি ডোজঃ প্রথম ৩টি ডোজ ২ মাস ব্যবধানে এবং ৪র্থ ডোজটি ১২-১৫ মাস বয়সে নিতে হবে (পূর্বের ডোজের অন্তত ২ মাস পর)
    • ৭ থেকে ১১ মাস বয়সঃ ৩টি ডোজ; প্রথম ২টি ডোজ ২ মাস ব্যবধানে এবং তৃতীয় ডোজটি ১২-১৫ মাস বয়সে নিতে হবে (পূর্বের ডোজের অন্তত ২ মাস পর)
    • ১২ থেকে ২৩ মাস বয়সঃ ২টি ডোজ। ২ মাস ব্যবধানে ২ টি ডোজ নিতে হবে ২ বছরের উর্ধেঃ ১টি ভোজ

নিউমোকক্কাল পলিস্যাকারাইড ভ্যাকসিনঃ

  • মাংসপেশিতে বা চামড়ার নিচে দিতে হয় (মাংসপেশিতে বেশি গ্রহণযোগ্য)
  • নিউমোকক্কাল পলিস্যাকারাইড ভ্যাকসিন ২ বছর বয়স থেকে বয়োজ্যেষ্ঠ সবার জন্য ১ টি ডোজ।
  •  নিউমোকক্কাল রোগে আক্রান্ত হওয়ার উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের ৫ বছর পর পুনরায় ১টি ডোজ নিতে সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া রিভ্যাকসিনেশনের জন্য ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

নিউমোকক্কাল রোগ প্রতিরোধে
নিউমোকক্কাল ভ্যাকসিন

Evimar 13

Prenovax 233